August 27, 2017, 3:39 pm, By Tahsina Tabassum Shrabanti

post image

 

তাহের : গার্মেন্টস কর্মকর্তা, বয়স ৪০

কামাল : আইনের ছাত্র, বয়স ২৮

মাসুদ : ছাত্র, বয়স ২২-২৩

জাবেদ : ছাত্র, বয়স ২২-২৩

রাকিব : ছাত্র, বয়স ২২-২৩

মিহির : ছাত্র, বয়স ২২-২৩

শিশির : ছাত্র, বয়স ২২-২৩

মনির : ছাত্র, বয়স ২২-২৩

বৃদ্ধ : কাজের মেয়ের বাবা, বয়স ৫৫

কাজের মেয়ে : পাশের বাসায় কাজ করে, বয়স ৮-

 

 

১ম দৃশ্য :

 

(মেস বাসা। ডাইনিং রুমে একটি ছোট খাটের পাশে মেঝেতে বসে ৬-৭জন রাতের খাবার খাচ্ছিল। সবার খাওয়া শেষ হলে প্রত্যেকে নিজে জের প্লেট হাতে নিয়ে একে একে রান্নাঘরে যায়। হাত ধুয়ে এসে গামছা দিয়ে হাত মুখ মুছতে থাকে।)

 

মাসুদ : (তার ঘরের দিকে যেতে যেতে ) খাওয়া দাওয়া শেষ এবার সবাই পড়তে বস।

কামাল : তোমার কাজ পড়া, তুমি পড়তে বস, (তার টেবিলের ড্রয়ার খুলে কিছু একটা হাতে নিতে নিতে) আগে ছাদে আমাদের ডেউটিটা শেষ করে আসি। (অন্যদের তাড়া দেয়) এসো, চল সবাই।

 

(হুমমুড় করে সবাই ছাদে চলে আসে। সবার শেষে আসে তাহের ভাই)

তাহের : রেডি হবে.....এ রেডি হও। এক. দুই . তিন।

(সবাই যার যার সিগারেট ধরিয়ে ফেলবে।)

 

কামাল : (সিগারেটের ধোয়া ছেড়ে) আমিই ফার্স্ট।

জাবেদ : ফার্স্ট তো হবেনই ভাই। কত বছরের অভিজ্ঞতা বলেন তো!

 

 

 

রাকিব : (অদূরে একটি দালানের ৪তলার দিকে তাকিয়ে) কামাল ভাই, দ্যাখেন মেয়েটাকে আজও বারান্দায় বাইন্ধা রাখছে।

(সবাই সেদিকে তাকায়)

 

কামাল : -৮ বছর বয়সী এতটুকু মেয়েকে দিয়ে কাজ করায়। তার উপর এত অত্যাচার। মেয়েটা তো বাঁচবে না।

 

তাহের : বিষয়টা মর্মান্তিক। আমি বুয়ারে দিয়া খবর নিছিলাম। বুয়া দেইখা আইছে মেয়েটার শরীরে পোড়ার দাগ। জিজ্ঞেস করায় বাড়ির মহিলা নাকি বলল, পানি গরম করতে যাইয়া গায়ে পইড়া গেছিল।

 

মিহির : শিশু নির্যাতনের গন্ধ পাওয়া যায়!

কামাল: এই বার আমি অবশ্যই থানায় ফোন করে জানাব, নইলে মেয়েটা বাঁচবে না।

 

তাহের : ভুলেও ঐকাম কইরো না কামাল বাই। আমি প্রায় ১৫ বছর অইল এই এলাকায় বসবাস করি। ঐ বাসায় যারা থাকে ওরা স্থানীয় প্রভাবশালী লোক। ঐদিকে (আঙ্গুল দিয়ে দেখাবে) ওদের নিজস্ব বাড়ি আছে। মহিলা শাশুড়ীর সাথে বনিবনা হয় না, তাই ভাড়া থাকে। তুমি থানায় জানাইছ জানতে পারলে হাড় হাড্ডি রাখবে না।

শিশির : মহিলাতো তাইলে বড় বজ্জাত।

মিহির : কি দরকার ভাই। ঢাকায় থাকি পড়াশুনার জন্য, মারামারি করার জন্য না।

 

কামাল: তোমাদের কাউকেই মারামারি করতে হবে না। যা করার আমি করব। আমি থানায় ফোন দিব।

তাহের : কিন্তু এতে আমরাও বিপদে পড়ব। তোমারে তো এই কাজ করবার দিব না!

শিশির, মনির : (সমস্বরে) হ্যাঁ, হ্যাঁ তাই।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

২য় দৃশ্য :

 

 

(সকালের নাস্তার টেবিলে সবাই)

তাহের : প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর ছাদে হাটাহাটি করার সময় দেহি মেয়েটারে সেইভাবেই বাইন্ধা রাখছে।

শিশির: সারারাত কি বান্ধা অবস্থায় ছিল?

তাহের : তাই ই তো মনে অয়! দিনের বেলা যখন কাজ করানোর দরকার অয় তখন খুলে দেয়।

 

(হঠাৎ মাসুদ উত্তেজিত হয়ে পত্রিকা নিয়ে ঢুকে)

মাসুদ : কামাল ভাই, একটা খবর আছে! বাংলা ইস্কুলের পিছনে বস্তাভর্তি শিশুর লাস! এই দেখেন।

মনির : আমাদের এই মেয়েটার কি খবর দেখা দরকার।

কামাল : দেখা দরকার মানে কি! আগে দেখেই আসি (বলেই ছাদের দিকে ছুটে যায়)

 

(অন্যরাও একে একে ছাদে উঠে যায়)

 

কামাল : (সেই ৪তলার দিকে তাকিয়ে ছিল, হঠাৎ পিছন ফিরে সবার দিকে তাকিয়ে ভয়ার্ত কন্ঠে) মেয়েটা ওখানে নেই!

শিশির : বারান্দার দরজাটাও বন্ধ!

মনির : জানালাটাও বন্ধ।

তাহের : কেউ বাসায় নাই মনে অইতেছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

৩য় দৃশ্য :

 

(কামাল পড়ার টেবিলে বসে কি যেন লিখছিল, তাহের আসে)

তাহের : কি খবর কামাল বাই, এই মোবাইলের যুগেও চিঠি লিখতেছ মনে অইতেছে? তা কারে লেখ, প্রিয় কাউকে নাকি?

 

কামাল : হ্যাঁ চিঠিই লিখছি, তবে থানায়।

তাহের : থানায় মানে?

 

কামাল : পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য। পত্রিকায় দেখলাম বাংলা স্কুলের পিছনে পাওয়া লাসের পরিচয় পাওয়া যায় নাই। তাই, ওটা এই ৪ তলার মেয়েটা কিনা পুলিশ একটু খুঁজে দেখতে পারে।

তাহের : কিন্তু এই মেয়েটা তো নাও অবার পারে। ওরা তো কোথাও বেড়াইতেও যাইতে পারে, তাই না?

 

কামাল : তাই যেন হয় ভাই। তাহলে, পুলিশ মেয়েটাকে উদ্ধার করতে পারবে। সে বেঁচে যাবে।

 

(দরজায় কলিং বেলের শব্দ, মনির গিয়ে দরজা খুলে, এক বৃদ্ধ বড় বড় চোখে ঘরের দিকে তাকায়। তাহেরকে দেখেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে)

 

তাহের : কি অইল চাচা কান্দ ক্যান? কি অইছে? আমার বাসা চিনলা কেমনে?

(বৃদ্ধ কাঁদতে থাকে)

 

কামাল : কে তাহের ভাই।

তাহের: আমার গ্রাম সম্পর্কে চাচা। এই কাজকর্ম কইর‍্যা খায় আরকি।

 

বৃদ্ধ : তোমার বাসা আগেই চিনতাম। কিন্তু তুমি বদ্রলোক মানুষ, আমি আইলে এহানে যদি তোমার সমস্যা অয়, তাই আসি নাই। (কাঁদতে কাঁদতে) কিন্তু আমারতো মার্ডার অইয়া গ্যাছেরে বাপ:

 

সকলে : (সমস্বরে) কি হইছে? কি হইছে?

 

 

 

 

বৃদ্ধ : (বিলাপ করতে করতে) আমার মায়েরে মাইরা ফালাইছে!

 

কামাল : কোথায় ক্যামনে?

 

বৃদ্ধ : তোমাগো পাশের বাসায় ৪ তালায় আমার মেয়েডা কাম করতো। আমি তো জানতাম না, উয়ার উপরে ম্যালা অত্যাচার করতো বলে। …........ হঠাৎ খবর পাইলাম......

 

 

তাহের : চলো থানায় যাই।

কামাল : থানায় গিয়ে কি হবে? ওকে তো আর বাঁচানো গেল না। আমি ফোন করবার চাইলাম....

শিশির : (বাঁধা দিয়ে) এখন ওসব রাখেন ভাই থানায় চলেন।

 

মাসুদ : (গম্ভীর কন্ঠে) আমি আগেই ভেবেছিলাম বিষয়টা থানায় জানানো উচিত।

কামাল : (মুখ ভেঙ্গিয়ে) বিষয়টা থানায় জানানো উচিত। তা তখন তো কেউ আমাকে সাপোর্ট করলে না। সব হাদারামের দল!

 

তাহের : চুপ করো সবাই। চলো থানায় যাই। (থানায় যাওয়ার জন্যে সবাই ঘর থেকে বের হবে, তাহের বিড়বিড় করে) আমারই সব দোষ, আমার জন্যই মেয়েটা মরল।

 

(সবাই ঘর থেকে বের হয়ে যাবে, মাসুদ ঘরের দরজা বন্ধ করার সময় ভিতরের দিকে একবার তাকাবে, দেখবে মুখে আঘাত, গলায় রক্তের দাগ, হাত বাঁধা একটি ৮ বছর বয়সী মেয়ে ঘরের ভিতর তার দিকে তাকিয়ে আছে)

 

মাসুদ : উমা ! (সামান্য চিৎকার করেই ঘরের দরজা দিবে, বুকে থুথু দিয়ে ভয় দুর করার চেষ্টা করবে এরপর দ্রুত সিড়ি দিয়ে নিচের দিকে নেমে যাবে)

 

 

 

--

 

This post has been read 289 times.


Please login for submit a comment!


Recent post of

Recent comments on

Recent comments of

  • commented on 's post. Title: JOYBANGABANDHU; comment:


  • FOLLOW US ON....

    Copyrights © 2018, All rights reserved | Template by SHRABANTI SOFT